Tag Archives: bengali

Translation of Hanif Kureishi’s short story “Weddings and Beheadings “

বিবাহ এবং শিরচ্ছেদ
হানিফ কুরায়েশি
অনুবাদঃ জেসিকা লিয়া

আমি সব সরঞ্জামআদি নিয়ে তাদের অপেক্ষায় বসে আছি। তাদের আসতে খুব বেশি দেরি হবেনা, কখনও দেরি হয়না।
আপনি আমাকে ব্যাক্তিগতভাবে চিনেন না। আমার অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনার হয়ত কোন ধারনাই নেই। কিন্তু আমি বাজি রেখে বলতে পারি যে আমার কাজ আপনি দেখেছেনঃ বিশ্বব্যাপী সব নিউজ চ্যানেলেই সম্প্রচারিত হয়েছে বলা যায়, বিশেষ করে কিছু অংশ তো বটেই। আপনি চাইলে এক্ষুনি ইন্টারনেটে খুজে দেখতে পারেন। মানে যদি সহ্য করেন পারেন আরকি।
এমন না যে আপনি আমার স্টাইল, আমার আর্টিস্টিক সিগনেচার সবকিছু বিশেষভাবে লক্ষ্য করবেন। আমি শিরচ্ছেদ এর ফিল্ম বানাই, এই যুদ্ধ পরাহত শহরে এটা খুব সাধারন ব্যাপার । এই শহরেই বেড়ে ওঠা আমার।
অল্পবয়সে যখন সিনেমা খুব পছন্দ করতাম তখন এমন কিছুর ফিল্ম করার কথা কল্পনাও করিনি। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানও করার ইচ্ছে হয়নি কখনও, বিয়ে যদিও আজকাল খুব বেশি হয়না। গ্রাজুয়েশন এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানেরও ওই একই অবস্থা। ছাত্র অবস্থায় আমরা বন্ধুরা মিলে সত্যিকারের সিনেমা বানাতে চাইতাম, যেখানে সত্যিকারের অভিনেতা থাকবে, সংলাপ থাকবে, কৌতুক থাকবে, সঙ্গীত থাকবে। সেরকম কিছুই আর সম্ভব হবেনা। প্রতিদিন,আমাদের বয়স বাড়ছে, ভেতরে কেমন জীর্ণতার অনুভুতি হয়। অনেক গল্প জমে আছে, বলার অপেক্ষায় ;আমরা আর্টিস্ট। কিন্তু এইসব ব্যাপার গুলো, এই যে মৃত্যু নিয়ে ঘাটাঘাটি, সব গ্রাস করে নিয়েছে।
আমরা এই কাজকর্ম করতে বাধ্য , না চাইলেও না করতে পারিনা, কোন আত্মীয়র বাড়ি যাচ্ছি বা কাটিং রুমে কাজ করছি বলেও পার পাইনা। তারা সময় অসময়ে হঠাত করে ডেকে পাঁঠায়, সাধারণত রাতের বেলায় এবং একটু পরেই ওরা বন্দুক হাতে বেরিয়ে পরে। আমাদের গাড়িতে বসিয়ে মাথা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। একসময় একজনেরই কাজ করার দায়িত্ব থাকে, সুতরাং ওদের সাথের গুন্ডারাই আমাদের গিয়ার বয়ে নিতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রধান সমস্যা হচ্ছে যে আমাদের ছবি নেয়ার সাথে সাথে সাউন্ড ও নিতে হয়, আবার ক্যামেরা লোড করে কিভাবে আলোটা সিন এ আসবে এসব ব্যাপার লক্ষ্য রাখতে হয়। আমি হাজার বার একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট দিতে বলেছি কিন্তু ঐ ওদের আনাড়ি লোকজনকেই গছিয়ে দিয়েছে, যারা কোন অঘটন না ঘটিয়ে একটা লেন্সও পরিস্কার করতে পারেনা।

এইধরনের পেশায় জড়িত আরও তিনজন কে চিনি আমি, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি, কিন্তু ভুলেও অন্য কারো সামনে উচ্চারণ করিনা, তাহলে দেখা যাবে আমাদেরকেই ক্যামেরার সামনে দাড় করিয়ে দিবে। কিছুদিন আগ পর্যন্ত আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুও শিরচ্ছেদের ফিল্ম বানাতো, ওকে ঠিক পরিচালক বলা যায়না, বড়জোর একজন লেখক। ওর হাতে ক্যামেরা দিয়ে বিশ্বাস নেই আমার। টেকনিক্যাল ব্যাপার নিয়ে খুব বেশি জ্ঞান নেই ওর , যেমন কিভাবে ইকুইপমেন্ট সেট করতে হয় , তারপর আবার কিভাবে কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রচার করতে হয়। এটি অবশ্যই একধরনের দক্ষতা।
আমার বন্ধুই একবার চিন্তা করছিল যে আমাদের কলিং কার্ড বানানো উচিৎ যেখানে বড় বড় অক্ষরে লিখা থাকবে “Weddings and beheadings” . কারেন্ট থাকলে আমরা ওর ফ্লাটে গিয়ে ভিডিওতে মুভি দেখি। ফিরে আশার সময় ও মজা করে বলে যে “মাটির নিচে মাথা গেঁড়ে ফেলনা বন্ধু। এখন পাগল হওয়ার সময়না। একদম মাথা ঠাণ্ডা!”

কয়েক সপ্তাহ আগে ও একটু গোলমাল করে ফেলেছে। ক্যামেরাগুলো বেশ ভালো ছিল, বিদেশি সাংবাদিকদের থেকে নেয়া বলে কথা, কিন্তু লাইটের একটা বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে আর ও রিপ্লেস করতে পারেনি। ততক্ষণে ভিক্টিমকে নিয়ে তারা হাজির। আমার বন্ধু তাদের বুঝাতে চেষ্টা করেছে বার বার “এখানে বেশ অন্ধকার, কিছুই ক্যামেরায় আসবেনা আর আবার রিটেকও নেয়া যাবেনা।” কিন্তু তারা সম্ভবত তারাহুরার মধ্যে ছিল..
ও বলেও তাদের থামাতে পারেনি- তারা ততক্ষণে ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করা শুরু করে দিয়েছে- ও তখন আতঙ্কে বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো যে ক্যামেরাটা চলছিল। অবশ্যই আন্ডারলিট এসেছে- এই অবস্থায় কি আশা করে তারা? যদিও আমার ভালোই লেগেছিল , আমি নাম দিয়েছিলাম-লিঞ্ছিয়ান (Lynchian) ; কিন্তু তারা ওকে মারপিট করেছে এবং আর কখনো কাজে ডাকেনি।
ওর কপাল ভালো। কিন্তু আমার ভাবছি ও হইয়ত পাগল হয়ে যাচ্ছে। গোপনে সে তার শিরচ্ছেদের কপিগুলো রেখে দিয়েছিল, ওগুলো নিয়েই সারাদিন কম্পিউটারে কাটিং, রিকাটিং, ভিডিওর সাথে অপেরা, জ্যাজ, কমিক সব রকমের গান বিভিন্ন ভাবে মিক্সিং এডিটিং করে আজকাল। একমাত্র এই স্বাধীনতাটুকুই হয়ত আছে ওর এখনো।
আপনি শুনলে হয়ত অবাক হবেন, কিন্তু আমাদের কাজের জন্য টাকা পাই, তারা সবসময় বারতি ঝামেলার জন্যও আমাদেরকে কিছু দেয়। তারা আবার মজাও করে মাঝে মাঝেঃ “পরের হ্ম্যাপটার জন্য পুরুস্কার আছে কিন্তু। কি? নতুন গিফট, প্রাইজ এইসব জিনিসপাতি পেতে ভালো লাগে তো?”
যেন আমি নরকের মধ্যে আছি, লং ড্রাইভ এ ক্যামেরা এবং ট্রাইপড নিয়ে বসে থাকা, বস্তার গন্ধ, অস্ত্র, এবং আপনি চিন্তা করতে থাকবেন যে হয়ত এবারের বলি আপনি নিজেই। আপনি স্বভাবতই অসুস্থ থাকবেন, এবং, তারপর আপনি বিল্ডিং এর ভিতরে,হয়ত ঘরের মদ্ধে, ক্যামেরা সেট করছেন এবং হঠাৎ আপনি পাশের ঘরে এমন কিছু শুনবেন যা শুনে আপনার পৃথিবীতে বেচে থাকার শেষ ইচ্ছে টুকু মরে যাবে।
আমি জানি আপনি খুব বিস্তারিত ভাবে কিছু জানতে চান না, কিন্তু আপনি যদি কসাই না হন তাহলে একজন মানুষের মাথা কাটা বেশ কঠিন কাজ; এবং এই লোকগুলো এই কাজের যোগ্য না, এরা শুধুই উত্সাহী- ওরা এসব করতেই পছন্দ করে। দৃশ্যটা বেশি ভালো হয়, যদি কোনভাবে মাথাটা ঢেকে ফেলার ঠিক আগের মুহূর্তে ভিক্টিমের চোখের একটা ভালো সট পাওয়া যায়। শেষের দিকে তারা রক্তাক্ত মাথাটা উঁচু করে ধরে, এই সট গুলো নেয়ার সময় ক্যামেরা হাতে ধরে ভিডিও করতে হয়, যাতে আর কিছু মিস না হয়। শট নেয়ার সময় ফ্রেইম ঠিক রাখাটা খুব জরুরি। আপনি কিছু মিস করলে আর জিনিশটা ভালো হবেনা। মূলত আপনার একটি কুইক রিলিজ ট্রাইপড রাখা দরকার। যেটা আমার আছে এবং আমি কখনই কাওকে ধার দিব না।

ওরা যখন আনন্দ উল্লাসে গুলি ছুরাছুরি করছে তখন আপনি টেইপ টা চেক করে বাজিয়ে দেখছেন। তারপর তারা বডিটা ব্যাগে ভরে কোঁথাও ফেলে দিবে, তারপর আর এক জায়গায় নিয়ে যাবে যেখান থেকে কম্পিউটারে সব কিছু নিয়ে অনলাইনে পাঠিয়ে দিবে।
আমি প্রায়ই চিন্তা করি যে এসবকিছু আমার উপরে কি প্রভাব ফেলছে। আমি যখন ওয়ার ফটোগ্রাফার দের কথা ভাবি, লেন্সের মাধ্যমে তারা মৃত্যু এবং কঠিন বাস্তবতা থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করে। কিন্তু তারা তাদের কাজ বেছে নিয়েছে, নিজেদের কাজের উপর বিশ্বাস আছে তাদের। আমরা নির্দোষ।
কোন একদিন আমি ঠিক ঠাক মত একটা ফিল্ম বানাতে চাই, হয়ত শুরুটা হবে একটা শিরচ্ছেদের দৃশ্য দিয়ে, পরে আস্তে আস্তে কাহিনী এগোবে। আমার আগ্রহ ঐ ধরনের জীবন জীবিকা তে, কিন্তু এখন যা অবস্থা, আমার হয়ত এসব কাজই করতে হবে আরও কিছুদিন। মাঝে মাঝে মনে হয় হয়ত আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। অথবা সেই পালাবার পথও আমার জন্য হয়ত বন্ধ ।
আমি এখন যাই। কে যেন দরজায়।

[1] a term that refers to David Keith Lynch’s filmmaking style.

Advertisements

Leave a comment

Filed under Article